মোঃশাকিল আহমেদ পঞ্চগড় প্রতিনিধি,
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১০ নং পাঁচপীর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে যে অজয় কুমার বর্মন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনিই এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এই রাজনৈতিক ডিগবাজি বা দলবদলকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাঁচপীর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় টিকিট পেয়ে বেশ ভালোভাবেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন অজয় কুমার বর্মন। সে সময় এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ ও দলীয় প্রভাবের সুবাদে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে ক্ষমতার পালাবদল এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার এই রূপান্তর এলাকাবাসীকে রীতিমতো অবাক করেছে।
হঠাৎ করেই বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় অজয় কুমার বর্মনের নাম আসার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ, আবার অন্য একটি পক্ষ এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চায়ের কাপের আড্ডায় এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ঘটনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কীভাবে আদর্শিক মেরুকরণ পেরিয়ে তিনি বিরোধী শিবিরের প্রধান দল থেকে মনোনয়ন বাগিয়ে নিলেন?
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক অনেক সময় বেশি প্রভাব ফেলে। তবে অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা কোনো প্রার্থীর ধানের শীষের মতো প্রতীকে নির্বাচন করা দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, পাঁচপীর ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা অজয় কুমার বর্মনের এই অবস্থান পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে এর কী ধরনের প্রভাব পড়ে।