মোঃশাকিল আহমেদ পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ,
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাহাপাড়া এবং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মাস্টার এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—সাহাপাড়া এলাকার মোছা. আলেফা বেগম (৫৫) এবং মাস্টার এলাকার জামিনুর রহমান (৪৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আলেফা বেগম। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মাস্টার এলাকায় নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন জামিনুর রহমান। স্থানীয়রা জানান, তিনি তার নবনির্মিত বাথরুমের ছাদ পরিষ্কার করছিলেন। ছাদে থাকা ঢালাইয়ের ইট নিচে ফেলে দেওয়ার পর পলিথিন সরাতে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালে ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চচাপের অরক্ষিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে আসেন।
এতে মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান জামিনুর। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জামিনুরের ঘরের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে কোনো সুরক্ষামূলক কাভার ছিল না। বাথরুমের ছাদ পরিষ্কার করার সময় অসাবধানতাবশত তিনি ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলেফা বেগমকে পরিবারের সদস্যরা দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আর জামিনুর রহমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়ার বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।