শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর :
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ: নদীভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ ও খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মাদকের ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় দেবীগঞ্জে কমিটি গঠন কে এই মোমেন শিকদার ও সোহেল গংদের,কোথায় তাদের খুটির জোর পুরান টিপরদী মোড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন পৌর বিএনপি নেতা মিঠু টিপরদী চৈতী বাসস্ট্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জামালপুরে ৩ দিনের আমরণ অনশনের পর ৪৪ জনের নিয়োগ বাদ ৭ জন বোদায় নিম্নমানের ইটের কাজ ঠেকাতে গিয়ে হুমকির মুখে প্রকৌশলী ও জনতা, মামলাসহ গ্রেপ্তার ১ জামালপুর ও শেরপুর থেকে চোরাই ১১ মোটরসাইকেল উদ্ধার, চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার সোনারগাঁয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, দায়িত্বশীলতায় সর্বমহলে প্রশংসিত

কে এই মোমেন শিকদার ও সোহেল গংদের,কোথায় তাদের খুটির জোর

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক,

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার গ্রাম। মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা এ এলাকার সাপ্তাহিক হাটটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে একটি ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও নানা অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোমেন শিকদার ও হাড়িয়ার সোহেল নামের দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতায় ‘চাকদা ড্রেজিং প্রকল্প’ নামে দুটি ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর নাব্যতা রক্ষার কথা বলা হলেও এর আড়ালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, বিশেষ করে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের কারণে আনন্দবাজারের স্থানীয় জনবসতি ও নদী তীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধনও করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব কর্মসূচির পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও দাবি, আনন্দবাজার একটি সংবেদনশীল এলাকা। অতীতে ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তারা।
এদিকে ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাকদা ড্রেজিং প্রকল্পের দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এই কার্যক্রম কতদিন বন্ধ থাকবে এবং পরবর্তীতে আবার বালু উত্তোলন শুরু হবে কি না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মোমেন শিকদার ও সোহেলের সংশ্লিষ্টতায় পরিচালিত ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অনুমোদনের চেয়ে বেশি পরিমাণ বালু উত্তোলন এবং রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু তোলার অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ড্রেজিং প্রকল্পের নামে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের পেছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? তাদের দাবি, নদী ও জনবসতি রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, মোমেন শিকদার ও সোহেল অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার দাবি, ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের দায় যেন দলের ওপর না পড়ে। তাদের ভাষ্য, ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিরোধ দ্রুত নিরসন করা না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে এবং এর প্রভাব রাজনৈতিকভাবেও পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, আনন্দবাজার ও মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জনবসতি ও নদীর তীর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, এবং এই বালুখেকোদের কবল থেকে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন ও মেঘনা নদিকে রক্ষা করা হউক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 কাগজ কলম
Theme Customized By Shah Mohammad Robel