মোঃশাকিল আহমেদ জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়,
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বিতরণ করা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পাউরুটির ভেতরে ধারালো ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের খাবারের মধ্যে এমন বিপজ্জনক বস্তু পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের ১১৬ নম্বর প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পাউরুটির ভেতর থেকে ব্লেডটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রথম শিফটের ছুটির পর শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পাউরুটি নিয়ে বাড়িতে যায়। পরে সেটি খাওয়ার সময় পাউরুটির ভেতরে ধারালো একটি ব্লেড দেখতে পায় সে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁরা পাউরুটিসহ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের অবহিত করেন।
পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় পাউরুটিটি নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দেন।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় জানান, মিম আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পাউরুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি পাউরুটিটি শিক্ষা কার্যালয়ে নিয়ে যেতে বলেন। পরে সেটি সেখানে জমা দেওয়া হয়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের প্যাকেটে এ ধরনের কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে কীভাবে এমন ধারালো বস্তু প্রবেশ করল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত ও সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পাউরুটিটি সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে, পঞ্চগড় জেলায় পাউরুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইএসডিওর স্কুল ফিডিং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই পাউরুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।