মোছাঃ তহমিনা বেগম বিউটি দিনাজপুর প্রতিনিধি,
দিনাজপুর শহরের পাশে ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের রুপন মিল এলাকায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সং,ঘ,র্ষ ও ছু,রি,কাঘা,তের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় দিনমজুর নাজমুল হোসেন ও তাঁর বাবা মো. ইসলাম গু,রু,তর আ,হত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মো. ইসলামের মৃ,ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হামজাপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর নাজমুল হোসেন মিজানুর রহমানের কাছে দিনমজুরির ৮০০ টাকা পাওনা ছিল। অভাবের তাড়নায় নাজমুল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাওনা টাকা চাইলে মিজানুর রহমান তাঁকে রুপন মিল বাজার এলাকায় আসতে বলেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন নাজমুল সেখানে গিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় নাজমুল পাওনা টাকা চাইলে মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে নাজমুলকে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ দেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, মিজানুর রহমানের লোকজন আগে থেকেই রুপন মিল এলাকার আশপাশে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা নাজমুল হোসেনের কোমরের নিচে ছু,রি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ছেলের উপর হা,ম,লার খবর পেয়ে তাঁর বাবা মো. ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর নির্দেশে মো. ইসলামের কোমরের ওপরের অংশে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। এতে তিনিও গুরুতর আ,হত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আ,হত মো. ইসলামের যথাযথ চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁরা চিকিৎসার অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় এ হা,মলার ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার আ,হত ইসলামের ভাগিনা মশিউর রহমান দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. ইসলামের মৃ,ত্যু হয়।
মৃ,ত্যু,র পর বুধবার ময়,না,তদন্ত শেষে ম,র দেহ দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের হামজাপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মামলার বাদী মশিউর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় আমরা দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছি। পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমাদের জোর দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। এভাবে মানুষ হ,ত্যা র ঘটনা ঘটতে থাকলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়।
এদিকে মো. ইসলামের ম,র,দেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, এর আগেও এ এলাকায় হত্যা,কা,ণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন সহিংসতার ঘটনা এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।