মোঃশাকিল আহমেদ পঞ্চগড় প্রতিনিধি;
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারকাজের জন্য কলসীবাহিনী প্রকল্পে ১০ জন নারী শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কারণে ফাতেমা বেগম নামে এক নারীকে কাজে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। লটারিতে একাধিকবার তাঁর নাম উঠলেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ওই নারী।
ফাতেমা বেগম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সরকারপাড়া এলাকার হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিএনপিকে ভোট দেওয়ায় তাঁকে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে লটারির মাধ্যমে ১০ জন নারী শ্রমিক নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি আরও ১০ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার কথা জানা গেছে। লটারিতে যাঁদের নাম ওঠে, তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের নাম একাধিকবার উঠেও তাঁকে কাজে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফাতেমা বেগম বলেন, “লটারিতে আমার নাম বারবার উঠলেও আমাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। আমার দোষ একটাই-আমি ও আমার পরিবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছি। আমাদের চেয়ারম্যান তো জামায়াতের।”
এ বিষয়ে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, “লটারির দিন পরিষদ থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারণে যেতে পারিনি। ফাতেমা বেগম খুবই গরিব। তাঁর বাড়ির জমিটুকুও নেই। তিনি অবশ্যই এ কাজের যোগ্য।”
অন্যদিকে, ৬ নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বলেন, “প্রতি ওয়ার্ড থেকে দুজন করে নেওয়া হয়েছে। একজন চূড়ান্ত তালিকায় এবং অপরজন অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। কোনো কারণে প্রথম ব্যক্তি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হবে।”
তবে লটারিতে একাধিকবার নাম ওঠার পরও ফাতেমা বেগমকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ না দেওয়ার কারণ এবং তাঁকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে কাজ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, লটারির ফলাফল এবং চূড়ান্ত ও অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।