নিজস্ব প্রতিবেদক,
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মারীখালী নদী বর্তমানে পরিবেশ দূষণ ও দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মেঘনা নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে পরিচিত এই নদী এক সময় ছিল এলাকার নৌ-যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশক আগেও মারীখালী নদীতে সারা বছর প্রবল স্রোত বয়ে যেত। নদীপথে বড় বড় নৌযান চলাচল করত এবং নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বাজার, ঘাট ও নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নদীটি তার স্বাভাবিক গভীরতা ও নাব্যতা হারাতে শুরু করে।
বর্তমানে নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ অংশ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে নদীর প্রস্থ ও প্রবাহ দুটোই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অবশিষ্ট যে অংশটুকু এখনও টিকে আছে, সেখানে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক, পচনশীল আবর্জনা ও অন্যান্য ময়লা। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অব্যাহতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নদীটি ধীরে ধীরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত নদী দখলমুক্ত করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, যথাসময়ে উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে এক সময়ের প্রাণবন্ত মারীখালী নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।