আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:
জামালপুরে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে জামালপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংবাদে প্রকাশিত ও যাচাইযোগ্য ঘটনার ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। ফলে সংবাদে না আসা ছোট-বড় দুর্ঘটনাসহ প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি জামালপুর সদর এলাকায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হন। এ ঘটনায় সঙ্গে থাকা একটি শিশু আহত হয়। এর চার দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি মাদারগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় ট্রাক্টরের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক শিশুযাত্রী নিহত হয়। আহত হন আরও তিনজন। ফেব্রুয়ারি মাসের এ দুটি ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত ও চারজন আহত হন।
১৯ জুলাই মেলান্দহ উপজেলার বেতমারী এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত তিনজন।
আগস্ট মাসে জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ১০ আগস্ট জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে জামালপুর আদালতে কর্মরত এক সহকারী জজ নিহত হন। আহত হন প্রাইভেটকারের চালক।
২১ আগস্ট মেলান্দহ উপজেলার শাহাজাতপুর এলাকায় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে একজন নিহত ও দুজন আহত হন।
মাসের শেষ দিন ৩১ আগস্ট সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শুধু আগস্ট মাসেই অন্তত ছয়জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে অন্তত তিনজন নিহত ও চারজন আহত, জুলাইয়ে দুইজন নিহত ও অন্তত তিনজন আহত এবং আগস্টে ছয়জন নিহত ও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আট মাসে সংবাদভিত্তিক হিসাবে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু ও ২০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে জানুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুনে কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেনি—এমনটি বলা যাচ্ছে না। ওই সময়ের অনেক দুর্ঘটনা সংবাদে প্রকাশ না হওয়ায় বা অনলাইনে তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় এ হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কতজন পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বা প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়েছেন, তার কোনো সমন্বিত জেলা-ভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও বিআরটিএর পৃথক পৃথক তথ্য থাকলেও সব সংস্থার তথ্য সমন্বয় করে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও স্থায়ী অক্ষমতার কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা হয় না।
একই সঙ্গে অনুসন্ধানে সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকার নাম একাধিকবার উঠে এসেছে। আগস্ট মাসেই সেখানে দুটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১০ আগস্ট প্রাইভেটকারের সঙ্গে ট্রাকের দুর্ঘটনায় একজন নিহত হন। আবার ৩১ আগস্ট বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারান চারজন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়কে প্রয়োজনীয় চিহ্ন ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
সংবাদভিত্তিক অনুসন্ধানে পাওয়া ন্যূনতম হিসাব বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই জামালপুরের সড়কে অন্তত ১১টি প্রাণ ঝরেছে। তবে সরকারি সব সংস্থার তথ্য একত্র করে পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হলে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।