বিশেষ প্রতিবেদক
আজ ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও স্মরণীয় একটি দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে দেশজুড়ে টানা কয়েক সপ্তাহের আন্দোলন, সংঘর্ষ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার এক নাটকীয় পরিণতি ঘটে। পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতির মধ্যে সেদিন দেশের ক্ষমতার পালাবদল হয় এবং দীর্ঘদিনের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও কারফিউ জারির মতো ঘটনায় পুরো দেশ অস্থির হয়ে ওঠে।
৫ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি ভবন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন বলে সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়া হয় এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় পরিবর্তনের দিন। তবে একই সঙ্গে এটি ছিল গভীর বেদনা, প্রাণহানি, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার দিনও। সেই দিনের ঘটনাগুলো এখনও দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সামাজিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।ইতিহাসের পাতায় ৫ আগস্ট তাই শুধু একটি তারিখ নয়—এটি একদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক, অন্যদিকে সংঘাত, ত্যাগ ও অনিশ্চয়তার এক স্মরণীয় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথেও দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলবে।