নিজস্ব প্রতিবেদক,
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উপজেলা অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ২২ আগস্ট উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচন বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুর রব।
তিনি বলেন ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশে তার দোসরদের রেখে গেছেন। অনেকে বলে আমরা নির্বাচনের পক্ষে না, আসলে তারা অনেক দিনের ক্ষুধার্ত। এখন তারা ক্ষুধা মিটানোর জন্য পাথর খাচ্ছে, বালু খাচ্ছে তারাই এসব কথা বলে বেড়ায়। আমরা এ যাবত সবগুলো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছি। এক সময় তারা কেয়ারটেকার বুঝে নাই এখন তারা পি আর বুঝে না। তাদের কে কেয়ারটেকার বুঝানোর জন্য ১৮০ দিনের আন্দোলন করতে হয়েছিল। দরকার হলে আবার আন্দোলন করব পি আর বুঝানোর জন্য। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াতের দুই জন মন্ত্রী তিনটা মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন এক টাকার দুর্নীতি খুজে পায়নি। জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশের প্রতিটি সেক্টর সচ্ছতার সাথে পরিচালিত করবে। জামায়াতের প্রার্থী কে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে কাছে বার বার যেতে হবে বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। এখনো সময় আছে পিআর পদ্ধতি ভালো করে বুজতে চেষ্টা করেন। নইলে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। আমরা নির্বাচনের একটা সমতল মাঠ চাই। অনেকে বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে কেউ বাড়ি ফিরে যেতে পারবেনা। তাহলে আমরা তখন কি করবো, হাতে আতর লাগিয়ে বসে থাকবো? তাই বলতে হবে, সকল দলের দেখা শেষ জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ। আমাদের নির্বাচন সংগঠনের বাইরে নয়। আমাদের সংগঠন হচ্ছে নির্বাচন মুখী সংগঠন। প্রার্থিকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। বার বার গিয়ে সাধারণ ভোটার বা জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন করে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক এজেন্ট তৈরী করতে হবে। সহায় মোদের আল্রাহ মার্কা মোদের পাল্লা, জিদবে এবার দাঁড়িপাল্লা ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন ফ্যাসিষ্ট হাসিনা শুধু ১৫ বছর নয় তার মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল তার উল্টো। আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসাবে নয় বাংলাদেশের এক নাম্বার দল হিসাবে জনগনের ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবে ইনশাআল্লাহ। সকল শ্রেণীর ভোটারের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। আমরা কারো সাথে ঝগড়া চাই না। সকলের সাথে বন্ধুত্ব চাই।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচন মুখী দল। নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে আমরা কখনো পিছপা হবোনা। আমরা চাই প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কমপক্ষে ২০০ জনকে নিয়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্র কমিটি করতে হবে। ওয়ার্ড ভিত্তিক মিটিং গুলো বাদ দেওয়া যাবেনা। ভোট চাইতে গণসংযোগে যেখানেই যাবেন জামায়াতে ইসলামীর ও দাওয়াত দিতে হবে এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে হবে। প্রার্থীর পরিচিতি সাথে থাকতে হবে এবং তা বিলি করতে হবে। ভোটের দিন নির্বাচনী এজেন্টগুলো সাহসী দেখে নিয়োগ দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও এডুকেশন সোসাইটির পরিচালক, নারায়ণগঞ্জ -৩ সোনারগাঁও আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া। তিনি বলেন যারা বলছে আমরা এদেশে শরীয়া আইন চাই না – বাংলাদেশের জনগণ এবার তাদেরকে প্রত্যাখান করবে। তাই আমাদেরকে সজাগ থেকে নির্বাচনী ভোটার ক্যাম্পেইন করতে হবে।
আরো বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন ইউনিয়ন সভাপতি, সোনারগাঁও দক্ষিন শাখার সেক্রেটারি আসাদুল ইসলাম সভাপতি মাহবুবুর রহমান উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা ইব্রাহিম সভাপতি মো. ইসহাক মিয়া।
কর্মশালা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের ১১টি ইউনিয়নের ৯৯ টি ওয়ার্ডের সভাপতি সেক্রেটারি ও প্রত্যেক কেন্দ্র কমিটির দায়িত্বশীলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কয়েক শতাধিক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।